গ্যাস নিয়ে চলছে হুলস্থুল কাণ্ড। লিকুইড সরবরাহে ঘাটতির কারণে গত কয়েকদিন ধরে খুলনার বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যাপক সংকট দেখা দেয়। তবে বেশি দাম দিলেই গ্রাহকপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে গ্যাস, এমনও অভিযোগ রয়েছে। গতকাল শনিবার নগরীর কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া যায়।
গ্যাস না পাওয়ার কারণে খুলনার কয়েকজন ব্যবসায়ী সিএনজি গ্যাস পাম্প থেকে বোতল রিফিল করে তা বাজারজাত করছেন। এতে একদিকে রয়েছে দুর্ঘটনা হওয়ার শঙ্কা অন্যদিকে গ্রাহকরা ওজনে কম পাচ্ছেন। এগুলি হলো- লতিফ ও সুরাইয়া ফিলিং স্টেশন।
২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। কিন্তু কয়েকদিনের লিকুইড সরবরাহে ঘাটতির কারণে বর্তমানে নগরীর ব্যবসায়ীরা গ্রাহক পর্যায়ে বসুন্ধরা ১২ কেজি ওজনের একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ টাকা, যমুনা ১ হাজার ৮০০ টাকা, ক্লীনহীট ১ হাজার ৮০০ টাকা, আই গ্যাস ১ হাজার ৮৫০ টাকা, ওমেরা ১ হাজার ৯০০ টাকা এবং সেনা ১ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।
নগরীর আহসান আহমেদ রোডের ব্যবসায়ী মোঃ আনিস বলেন, চাহিদার তুলনায় কম গ্যাসের বোতল দিচ্ছে কোম্পানিরা। যা দিচ্ছে তা থাকছে প্রয়োজনের তুলনা অপ্রতুল। দুইদিন আগে একশ’ বোতল গ্যাস পেয়েছেন এ ব্যবসায়ী।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যে গ্যাস পাচ্ছি তা দিয়ে পাইকারি ব্যবসা চালানো দুরূহ ব্যাপার।
রূপসার এক ব্যবসায়ী বলেন, খুলনাসহ সারা দেশে চলছে গ্যাসের সংকট। ঢাকার ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য বিভিন্নস্থান থেকে কম দামে গ্যাস কেনার জন্য ছুটে বেড়াচ্ছে। গত দুইদিন আগেও আমার কাছে ঢাকা থেকে এক ব্যবসায়ী গ্যাস ক্রয়ের জন্য আসেন। কিন্তু অধিক মুনাফার কথা চিন্তা না করে তাকে ফিরিয়ে দেন।
নগরীর বাগমারা এলাকার গ্যাস ব্যবসায়ী রহিম বলেন, গ্যাস তৈরি প্রধান উপকরণের একটি বৃহৎ অংশ কাতার থেকে আসত। কিন্তু বর্তমানে সেখান থেকে এ উপাদান আসছে না। দেশের সরকার যদি বিকল্প কোনো উৎস না পায় তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।
টুটপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী নুর আলম বলেন, দেশে ৫টি কোম্পানির গ্যাস আমদানির এলসি আছে। বাকী ৩২ কোম্পানির এলসি নেই। ফলে এ ৫টির কাছ থেকে অন্যান্য কোম্পানিরা তাদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে চলছে।
এদিকে খুলনার এক ব্যবসায়ী বলেন, গ্যাস না পাওয়ার কারণে একটি কোম্পানির প্রতিনিধিরা রাতের আধারে গ্যাসের পাম্পে গিয়ে বোতলে গ্যাস রিফিল করছেন। এতে একদিকে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে অন্যদিকে গ্রাহকরা পরিমাণেও কম পাচ্ছেন।
টুটপাড়া বাসিন্দা শুকুর আলী বলেন, সরকারের নির্দেশকে উপেক্ষা করে ব্যবসায়ীরা বর্ধিত দরে গ্যাস বিক্রি করছেন। ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দরের থেকে অতিরিক্ত আরও ৪০০-৫০০ টাকা দিয়ে গ্যাস কিনছেন সাধারণ মানুষ। তিনি ৪-৫টি দোকান ঘুরে ১ হাজার ৯০০ টাকা এক বোতল গ্যাস পেয়েছেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

